স্বৈরাচারী সরকার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঝালকাঠির রাজপথে আন্দোলনে ছিলেন অকুতোভয় সৈনিক কেশব সুমন।
অগ্রভাগেই ঝাপিয়ে পড়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। একমাস, দুই মাস না, টানা ১৭বছর এভাবেই আন্দোলন-সংগ্রাম কর্মসূচীতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি শুধু একাই নন, তার সাথে জেলা, শহর, উপজেলা ও তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাও ছিলেন তার নেতৃত্বাধীন।

৪আগস্ট ঝালকাঠি যখন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলন তুঙ্গে, তখনও সামনের সারিতেই ছিলেন তিনি। দুপুরে তৃষ্ণার্ত ছাত্র-জনতাকে নিজ অর্থে পানি পান করিয়েছেন। নিজের ব্যক্তি কোন স্বার্থে নয়, জাতীয় স্বার্থে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়ন করতে।
তিনি তৃণমূল থেকে উঠে আসা সাহসী ছাত্র নেতা ঝালকাঠি জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি ও সভাপতি প্রার্থীকেশবসুমন সরকার।

উদার মন-মানসিকতার এই নেতা বরাবরই ছিলেন রাজপথের সক্রি কর্মী। রোদ-বৃষ্টি-ঝড় তুফান উপেক্ষা করে এবং স্বৈরাচারী শাসনের পেটোয়া বাহিনীর দমনপীড়নের মুখেও তিনি নিজের অবস্থান থেকে এক চুল নড়েননি।
তিনি সর্বদা নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নির্দেশকে সম্মান জানিয়ে রাজপথে নিজের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
২০২৪ সালের ২ আগস্ট রাত ২টা ৩০ মিনিটে কেশবসুমন সরকার ঝালকাঠি জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার মাধ্যমে রাজপথে নামার আহ্বান জানান।
এটি ছিল একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত, যেখানে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে বার্তা আসার আগেই ছাত্রদলের সাংগঠনিক বার্তা পৌছে দেন জনগণের মাঝে।
সেদিন তিনি নিজেই রাজপথে নেমে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন এবং আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন।
বিগত প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে তার দেহ ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে, এখনও তিনি সেসব আঘাতের চিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছেন।
জাতি, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে, যেখানেই অন্যায় বা নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে, সেখানেই তিনি ছিলেন রাজপথের প্রথম সারিতে।
তার পরিবারও বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হলেও তিনি কখনো পিছু হটেননি।
কেশবসুমন সরকারের লক্ষ্য আগামী দিনে ঝালকাঠি জেলা ছাত্রদলকে একটি আধুনিক, সুশৃঙ্খল, চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত সংগঠনে পরিণত করা।
তিনি চান একটি টেন্ডারবাজ, সুবিধাবাদী রাজনীতি থেকেমুক্ত, আদর্শভিত্তিক ছাত্রদল গড়ে তুলতে।যার নেতৃত্বে থাকবে ত্যাগী, সাহসী ও আদর্শবান কর্মীরা।
ঝালকাঠির প্রতিটি অলিগলিতে যার নাম মিশে আছে রাজপথের ধুলোবালির সাথে, সেই সৈনিকের নামই কেশব সুমন সরকার একটি প্রজন্মের অনুপ্রেরণা, এক সাহসী নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি।
তিনি ব্যক্তিগতভাবে কালিবাড়ি বাড়ি রোড় শীতলা খোলা এলাকার বাসিন্দা এবং গুরুদাম পালপাড়া এলাকায় তার জন্মস্থান।অনিল চন্দ্র সরকারের ৩ সন্তানের মধ্যে কেশব সুমন সরকার মেজো এবং সে স্নাতক অধ্যায়নরত।