প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব কমানো ও চোখের রোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণে তৃণমূল স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষ করে তুলতে ঝালকাঠিতে চক্ষুস্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলাকে ছানিমুক্ত করার লক্ষ্যে নেওয়া ‘বরিশাল ভিশন ২০৩০’ প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১০টায় ঝালকাঠি সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হলরুমে দ্যা ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এতে কমিউনিটি পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের মৌলিক চক্ষু পরিচর্যা, প্রাথমিক দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও চোখের রোগ শনাক্তকরণের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণও বিতরণ করা হয়, যাতে স্বাস্থ্যকর্মীরা মাঠপর্যায়ে প্রাথমিক চক্ষু পরীক্ষা ও রোগ শনাক্তকরণে ভূমিকা রাখতে পারেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা. মো. হুমায়ুন কবির। রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক তাপস কুমার শীল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রিফাত আহমেদ। এ ছাড়া ঝালকাঠি সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মাসুম খান ও দ্যা ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মোসা. বেবী নাজনীন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
প্রশিক্ষণে চোখের বিভিন্ন রোগের প্রাথমিক লক্ষণ চিহ্নিত করা, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা নিরূপণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীদের চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানোর কৌশল তুলে ধরা হয়। প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বরিশাল হেমায়েত উদ্দিন আহমেদ ডায়াবেটিস হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. কানিজ সুরাইয়া।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ‘বরিশাল ভিশন ২০৩০’ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলায় ছানিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধ ও ছানি চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণ। এ লক্ষ্য অর্জনে স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি গেটকিপার ও সামাজিক কর্মীদের চক্ষুস্বাস্থ্য বিষয়ে দক্ষ করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তৃণমূল পর্যায়ে চোখের রোগ দ্রুত শনাক্ত করে রোগীদের যথাসময়ে চিকিৎসার আওতায় আনা গেলে প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্বের ঝুঁকি কমবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে চক্ষুস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়বে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার পথও সহজ হবে।