ত্রান অফিসের কর্মচারীর বিরুদ্ধে দরিদ্রদের প্রায় ১৫ বান ঢেউটিন আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ভান্ডারিয়া উপজেলার পরিষদের ত্রান ও পূর্নবাসন শাখার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মুদ্রাক্ষরিক মো: আবু বকর সিদ্দিকি ওরফে বাবলু হাওলাদারের বিরুদ্ধে।
তিনি রাজাপুর উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের দক্ষিন পুটিয়াখালী গ্রামের মো: নাসির উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ থাকা ১৫ বান ঢেউটিন আত্মসাত করে রাজাপুরের দক্ষিন পুটিয়াখালী গ্রামের নিজের ভাইয়ের নতুন বসত ঘরের ছাউনিতে (চালা) ব্যবহার করেছেন আবু বকর সিদ্দিক।
এবিষয়ে জানতে আবু বকরের বাড়ি গেলে তার মেজো ভাই হেলালের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস’র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার স্বামী বিদেশে থাকেন, আমরা ২০২২ সালে রাজাপুর উপজেলার বিতরনকৃত ত্রানের টিন কিনে ঘরের ছাউনিতে ব্যবহার করেছি। কার কাছ থেকে কিনেছেন জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানান, আমরা দেখেছি আবু বকর সিদ্দিক বাবলুর ঘরের চালে সরকারি সীল যুক্ত টিন লাগানো হয়েছে। আমরা তখন তাদের কাছে কিছু জানতে চাইনি কারন বাবলু উপজেলার ত্রান শাখায় চাকরি করেন।
দক্ষিন পুটিয়াখালী এলাকার সচেতন নাগরিকরা বলেন, হত দরিদ্রদের নামে বরাদ্দ ঢেউটিন কিভাবে বাবলুর ঘরে এলো? এরকমভাবে সরকারি সম্পদ আত্মসাত করতে থাকলে গরিবেরা একদিন কিছুই পাবে না। এব্যাপারে তারা কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
এবিষয়ে অভিযুক্ত অফিস সহকারী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আমি ভান্ডারিয়ায় চাকরির জন্য ভাড়া বাসায় থাকি। ত্রানের টিন আমি আত্মসাত করিনি। আমার বাড়িতে ত্রানের টিনের বিষয়ে আমি জানিনা।
গালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমি লোক পাঠিয়ে জানতে পারি যে তাদের বসত ঘরের ছাউনিতে সরকারি ত্রানের ঢেউটিন ব্যবহার করা হয়েছে।
রাজাপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: শফিউল বশারকে একাধিবার মুঠোফোনে কল দিলে তাকে পাওয়া যায়নি।
এব্যাপারে ভান্ডারিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: মামুন অর রশিদ বলেন, আবু বকর সিদ্দিক ত্রান শাখার অফিস সহকারী। কিন্তু তার বাড়িতে সরকারি ঢেউটিন কিভাবে গেলো তাতো আমি জানি না। আমাদের উপজেলার দরিদ্রদের ত্রানের ঢেউটিন গ্রহীতাদের সকলের তালিকা আছে তার মধ্যে তার নাম নাই।
রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহুল চন্দ্র বলেন, আমাদের উপজেলায় যারা ত্রানের টিন পেয়ে থাকে আমরা তাদেরর বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ঢেউটিন বিতরন করে থাকি। যদি কেউ বলে থাকে রাজাপুর উপজেলার ত্রানের টিন কিনেছেন তাহলে সেটা সঠিক নয়।