জুলাই আন্দোলন কেবল একটি ছাত্র আন্দোলন নয়, বরং এটি ছিল স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে একটি প্রতীকী প্রতিরোধ। এই আন্দোলন আমাদের মনে করিয়ে দেয় গণতন্ত্র ও ন্যায়ের জন্য কিভাবে তরুণ প্রাণগুলো জীবন উৎসর্গ করেছিল।
ঝালকাঠি জেলার বিভিন্ন স্থানের ১০জন ছাত্র, তরুণ ও যুবক শাহাদাত বরণ করেছেন। তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নির্মাণ করা হচ্ছে জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ।
ঝালকাঠির আদালত প্রাঙ্গণে ৭১’র মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ সংলগ্ন জুলাই স্মৃতি স্তম্ভটি নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। প্লাটফরম নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ, স্টিলের মূল নামফলক এলেই তা বসিয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। সেটিও ২/১দিনের মধ্যে পৌছবে।
২৪’র সেই জুলাইয়ের ছাত্র জনতার গণআন্দোলনে যেদিন ঢাকাসহ সারা দেশের রাজপথে শুরু হয়েছিল রক্তঝরা গণপ্রতিরোধ। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর গুলিতে ঝরে পড়ে একের পর এক প্রাণ। কিন্তু সেই রক্তভেজা রাজপথের আন্দোলন থেমে থাকেনি শুধু ঢাকার মধ্যেই।
আন্দোলনের আগুন ছড়িয়ে পড়ে প্রতিটি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, বিভাগীয় শহর, জেলা শহর, উপজেলা গুলোতেও। এরপর তা রূপ নেয় সারা দেশের অভ্যুত্থানের ঢেউয়ে। ২০২৪সালের জুলাই-আগস্টে সেই আন্দোলনই নাড়িয়ে দিয়েছিল একটি শাসন ব্যবস্থাকে, জাগিয়ে তুলেছিল নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন।
ঐতিহাসিক সেই ঘটনার শহীদদের স্মরণে সারা দেশের ন্যায় ঝালকাঠির আদালত প্রাঙ্গণে ৭১’র মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভের পাশেই নির্মিত হচ্ছে ২৪’র ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’। এটি কেবল একটি স্থাপনা নয়, বরং একটি চেতনার ভৌত রূপ, একটি জাতির ঋণমুক্তির প্রতীক।
গণপূর্ত উপবিভাগ সূত্রে জানাগেছে, প্রকল্পটির বাস্তবায়নে কাজ করছে ঝালকাঠি গণপূর্ত উপবিভাগ।
অর্থায়ন করছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে আনুমানিক ১৪ লাখ টাকা। ১০ জুলাই কাজ শুরু হয়েছে, আর ৪আগস্টের মধ্যে তা শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও নিরবচ্ছিন্ন নির্মাণকাজ করায় তা ইতিমধ্যে প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের সাধারণ শাখার প্রশাসনিক কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, গত ৭জুলাই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই প্রকল্পের সিদ্ধান্ত হয়। জেলা প্রশাসক আশরাফুর রহমান নিজেই নিয়মিত কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেছেন।
গণপূর্ত উপবিভাগের উপ-প্রকৌশলী ফাহিম আহমেদ জানান, জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। প্ল্যাটফর্ম সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ঢাকা থেকে স্টিল স্ট্রাকচার এলেই বসানো হবে। তাই এখন সম্পুর্ণ কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।
জুলাই আন্দোলনের ঝালকাঠির সম্মুখসারির যোদ্ধা ও ঝালকাঠি জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক আল সা’দ লিখন বলেন, জুলাই ৩৬ আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার। এটা একটি জাতীয় আত্মদানের ইতিহাস। শহীদদের বুকের রক্তে আমরা পেয়েছি প্রতিবাদের ভাষা, বাঁচার সাহস। তাঁদের স্মরণে এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এটিকে রক্ষা করা বর্তমানে আমাদের দায়, আমাদের দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, এটা শুধু পাথর বা স্টিলের স্মারক নয়, এটা আমাদের আত্মার অংশ। আত্মদানকারী মহান শহীদদের আমরা ভুলিনি, ভুলতে দেব না।