কামরুজ্জামান সুইট,ঝালকাঠি
ঝালকাঠিতে জুলাই পুনর্জাগরণের অনুষ্ঠান মালার অংশ হিসেবে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় তারুণ্যের উৎসব উদযাপন করেন। ৩১জুলাই উদযাপিত তারুণ্যের উৎসব পালনে প্রতিটি বিদ্যালয়ে অর্থ বরাদ্দ দেয় মন্ত্রণালয়।
কিন্তু অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কতিপয় লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসর শিক্ষক এবং পরিচালনা কমিটি দায়সারাভাবে পালন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কেউ ব্যানার সর্বস্ব পালন করেছে। তারমধ্যে আবার অনেক বিদ্যালয়ে গতবছরের পুরাতন ব্যানার ব্যবহার করে ছবি তুলে উৎসবভাতা আত্মসাত করেছেন বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানামালা স্থগিত করেছিল সরকার। এজন্য দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও গত ২২থেকে ২৪জুলাইয়ের সব অনুষ্ঠান স্থগিত করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
স্থগিত এ অনুষ্ঠানামালার নতুন সূচী প্রকাশ করে তা পালনের আদেশ দেয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। আদেশে বলা হয়, “মাইলস্টোন কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনার কারণে জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালা-২০২৫-এর ২২-২৪ জুলাই তারিখ পর্যন্ত নির্ধারিত অনুষ্ঠানমালা স্থগিত করা হয়েছে। এ কারণে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গত ২৪জুলাইয়ের অনুষ্ঠানসমূহ আগামী ৩১ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে।”
ঝালকাঠি সদর উপজেলার মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নাগপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সরেজমিনে দেখাগেছে, সকাল ১০ টা থেকে দুুপুর ১টা পর্যন্ত কোন অনুষ্ঠানের কোন ছিটেফোঁটাও নাই।
এবিষয়ে মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা অনুষ্ঠান করেছি। ব্যানার দেখতে চাইলে বলে আগের তারুণ্যের উৎসবের ব্যানার আছে। প্রধান শিক্ষকের কথার সত্যতা জানতে শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চাইলে স্কুলে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা বলেন আমাদের স্কুলে কোন অনুষ্ঠান হয়নি।
নাগপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গিয়ে দেখা যায় শিক্ষার্থীরা বারান্দায় খেলাধুলা করছে। জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠান হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তারা বলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসিমা আক্তার ছুটিতে আছেন। আপনারা ম্যাডামের সাথে কথা বলেন। অনুষ্ঠানের ব্যানার দেখতে চাইলে বলেন প্রধান শিক্ষক(ম্যাডাম) ব্যানার বানাইছে স্কুলে নাই। তবে অনুষ্ঠান হবে। প্রধান শিক্ষক ছুটিতে কিন্তু ব্যানার তার কাছে কেন জানতে চাইলে ২জন উপস্থিত সহকারী শিক্ষিকা তাসলিমা সদুত্তর দিতে পারেন নি।
এদিকে উপজেলার রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক, প্রতাপমহল, কিস্তাকাঠি, নেহালপুর,বাওতিতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিফাইত নগর সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয়সহ আরো অনেক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠান চলছে জুলাই-আগষ্ট অভ্যুত্থানের ছবি ও শিরোনামযুক্ত ব্যানার না করে তারুণ্যের উৎসবের ব্যানার টাঙ্গিয়ে কর্মসূচি চলছে এবং পুরস্কার হিসাবে কলম, টিফিন বক্স ও পেনসিল বক্স দেখা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে যারা জুলাই-আগষ্ট অভ্যুত্থান মানতে নারাজ এবং স্বৈরাচারের দোসর ও সমর্থম এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চায়, তারাই প্র্রথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশ এ কর্মসূচি সঠিকভাবে পালন করেননি এবং বরাদ্দ টাকা দিয়ে ব্যানার না করে আগের তারুণ্যের উৎসবের ব্যানার দিয়েই চালিয়ে দিয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানাগেছে, জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানে নাস্তা,পুরস্কার ও জুলাই-আগষ্ট অভ্যুত্থানের ছবিযুক্ত ব্যানার করার জন্য সব বিদ্যালয়ে ২ হাজার ৫শ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
এবিষয় ঝালকাঠি সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (টিইও) মো: রফিকুল ইসলাম দৈনিক খবরকে বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানে জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালা আয়োজন ও অনুষ্ঠানের ব্যানার করেনি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্ত্রণালয়ের আদেশের তথ্যমতে, ৩১ জুলাই তিনটি অনুষ্ঠান হবে। সেগুলো হলো- শিশু শহীদদের স্মরণে প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জুলাইকেন্দ্রিক কবিতা, গান, রচনা, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কনসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিযোগিতামূলক কর্মসূচি।
প্রতিটি পিটিআইয়ে প্রশিক্ষণার্থী এবং সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে জুলাই অনির্বানসহ জুলাইয়ের চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা। প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জুলাই চব্বিশ নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।